ঢাকা    শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক আজকের দিন

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ এবং বসবাসের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুসংহত করতে ২০২৬ সালে ভিসার নিয়মনীতিতে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন-অ্যারাইভাল ভিসা থেকে শুরু করে আবাসন এবং পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়মগুলো কার্যকর করা হয়েছে, যা প্রবাসী, পর্যটক ও আবাসন বিনিয়োগকারীদের জন্য জানা অত্যন্ত জরুরি।  ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি (আইসিপি) এবং দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মাধ্যমে চলতি বছরের এ পর্যন্ত যে ছয়টি প্রধান পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। প্রথম বড় পরিবর্তনটি এসেছে অন অ্যারাইভাল ভিসার ক্ষেত্রে। আইসিপি ১৪ দিন এবং ৬০ দিন মেয়াদী ইউএই এন্ট্রি ভিসার যোগ্যতা আরও বাড়িয়েছে। আগে এই সুবিধাটি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে শুধু ভারতীয় নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য থাকলেও, এখন থেকে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, কেনিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরাও এর আওতাভুক্ত হয়েছেন।  এছাড়া যোগ্য আবেদনকারীদের বসবাসের দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি এখন সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং কানাডাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনপ্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মিশর, ফিলিস্তিনকে জয় উৎসর্গ করলেন কোচ পর্যটকদের জন্য আরেকটি সুখবর এনেছে জেনারেল ডিরেক্টরেট অফ আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স। দুবাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটকরা অনুমোদিত পর্যটন অফিসগুলোর মাধ্যমে আবেদন করলে এখন মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এককালীন প্রবেশাধিকার সংবলিত পর্যটন ভিসা পেয়ে যাচ্ছেন, যার মেয়াদ ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে। আবাসন খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য দুই বছরের সম্পত্তি-লিঙ্কড রেসিডেন্সি পারমিট দেওয়ার শর্তেও বড় সংশোধন এনেছে দুবাই কর্তৃপক্ষ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একক বিনিয়োগকারীদের জন্য আগের ন্যূনতম ৭,৫০,০০০ দিরহামের সম্পত্তির মূল্যের বাধ্যবাধকতাটি বাতিল করা হয়েছে, তবে আবেদনকারীকে সম্পত্তির একমাত্র মালিক হতে হবে। আর যদি সম্পত্তিটি যৌথ মালিকানাধীন হয়, তবে রেসিডেন্সি ভিসার জন্য যোগ্য হতে প্রতিটি অংশীদারের শেয়ারের মূল্য কমপক্ষে ৪,০০,০০০ দিরহাম হতে হবে। পাশাপাশি, ওভারস্টে জরিমানার সাময়িক ছাড়ের মেয়াদও শেষ হয়ে আসছে। আঞ্চলিক আকাশসীমা বন্ধ এবং ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে যে সমস্ত দর্শনার্থীদের সাময়িকভাবে জরিমানা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল, তাদের জন্য ৩০ দিনের একটি বিশেষ সময়সীমা ঘোষণা করেছে আইসিপি। বিশেষ পরিস্থিতি শেষ হয়ে যাওয়ায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের ভিসার মর্যাদা বৈধ করতে হবে অথবা সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে হবে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনলাল পতাকায় পরিপূর্ণ খামেনির দাফন অনুষ্ঠান, কফিনের ওপর আরবিতে কী লেখা চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে দুবাইয়ে ‘স্মার্ট মেডিকেল ভিসা’র উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের সুবিধার্থে একটি সমন্বিত স্মার্ট মেডিকেল ভিসা ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে জিডিআরএফএ এবং দুবাই হেলথ অথরিটি। এই কৌশলগত চুক্তির লক্ষ্য হলো মেডিকেল ট্যুরিস্টদের দুবাই আগমনের আগে থেকে শুরু করে চিকিৎসা এবং ফলো-আপ পর্যন্ত ভিসা, রেসিডেন্সি এবং স্বাস্থ্যসেবাকে একটি একক ও নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসা। সর্বশেষ পরিবর্তনটি এসেছে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইবোলা-আক্রান্ত দেশগুলোর জন্য ভিসা স্থগিতকরণের মাধ্যমে। ইবোলা ভাইরাসের বিস্তার রোধে পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।  ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি এবং আইসিপি-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের জন্য এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে, যা পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তীতে আরও বাড়ানো হতে পারে। সূত্র: খালিজ টাইমস।

২১ মিনিট আগে পড়ুন

রোনো রাউটার / পুরোনো রাউটারকে বানিয়ে ফেলুন ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার

রোনো রাউটারকে Access Point (AP) Mode এ চালিয়ে ইথারনেট কেবলের মাধ্যমে মূল রাউটারের সঙ্গে যুক্ত করুন। এতে নেটওয়ার্কের গতি ও স্থায়িত্ব বেশি থাকবে। এর জন্য রাউটার রিসেট করে, ফার্মওয়্যার আপডেট করে, LAN থেকে WAN-এ কেবল সংযোগ দিয়ে ওয়েব সেটিংসে গিয়ে AP মোড চালু করতে হবে। ২. রিপিটার মোডে তারহীন সংযোগ যদি তার টানার সুযোগ না থাকে, তাহলে রিপিটার মোড ব্যবহার করুন। এতে পুরোনো রাউটার মূল ওয়াই-ফাই সংকেত ধরবে এবং নতুন নামে পুনঃসম্প্রচার করবে। তবে মনে রাখবেন, এতে ইন্টারনেটের গতি কিছুটা কমে যায়-প্রায় অর্ধেক হতে পারে। ৩. প্রতিটি রাউটারের পদ্ধতি আলাদা হতে পারে সব রাউটার AP বা রিপিটার মোড সমর্থন করে না। তাই রাউটারের ইউজার ম্যানুয়াল বা নির্মাতার ওয়েবসাইট থেকে নির্দেশনা দেখে নিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে থার্ড পার্টি ফার্মওয়্যার (যেমন: DD-WRT) ব্যবহার করেও বাড়তি ফিচার চালু করা সম্ভব।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়েরা কেন বেশি বিপর্যস্ত, কী বলছে গবেষণা?

অন্যদিকে একই বয়সি ছেলেদের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র প্রতি ১০ জনে একজন। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাজ্যের পাবলিক হেলথ ওয়েলস (PHW) ও কার্ডিফ ইউনিভার্সিটি।গবেষণায় দেখা গেছে, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েরাই সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। দশম শ্রেণির ১৪-১৫ বছর বয়সি ২১ শতাংশ মেয়ে এবং নবম শ্রেণির ১৩-১৪ বছর বয়সি ২০.৫ শতাংশ মেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে জানায়। ছেলেদের ক্ষেত্রে একই বয়সে এ হার যথাক্রমে ১০.১ এবং ৯.৮ শতাংশ। ১৩ বছর বয়সি লয়েস জানায়, ‘কখনো কখনো শুধু সময় কাটানোর জন্য ফোন হাতে নিই। কিন্তু বুঝতেই পারি না কখন দুই ঘণ্টা পেরিয়ে যায়! এটা মাঝেমধ্যে ভয় পাইয়ে দেয়।’ গবেষণায় অংশ নেওয়া অনেকে জানিয়েছে, খেলাধুলা বা শখের কাজ বাদ দিয়ে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় দিচ্ছে।পিএইচডব্লিও-এর স্বাস্থ্য উন্নয়ন পরামর্শক এমিলি ভ্যান দে ভেনটার জানান, মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বেশি সময় রাতেও ডিভাইস ব্যবহার করে এবং বেশি রিপোর্ট করে যে তারা সাইবার বুলিয়িংয়ের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু সুবিধা থাকলেও টিনএজারদের মানসিক স্বাস্থ্যর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও আত্মমূল্যায়নের ঘাটতির পেছনে এটি একটি বড় ভূমিকা রাখছে।’ তিনি আরও পরামর্শ দেন, রাতে ডিভাইসের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, ঘুমানোর ঘরে ফোন না রাখা এবং ঘুমের আগে সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশ না করার অভ্যাস তৈরি করলে সমস্যা কিছুটা কমে আসতে পারে। জরিপটিতে সপ্তম থেকে একাদশ শ্রেণির প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এটি কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, সম্পর্ক, স্কুল জীবন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের নানা দিককে ঘিরে সবচেয়ে বৃহৎ ও তথ্যবহুল জরিপগুলোর একটি

ঈদে আসছে নতুন টাকা, থাকছে না কোনো ব্যক্তির ছবি: গভর্নর

শনিবার (২৪ মে) সকালে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনে দেশের প্রথম ক্রেডিট এনহ্যান্সমেন্ট স্কিম উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।গভর্নর বলেন, ‘নতুন নোটে থাকবে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা। ঈদে বাজারে প্রথমে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট আসবে।’টাঁকশাল থেকে জানা গেছে, ২০ টাকার নোট ছাপা প্রায় সম্পন্ন। আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর পরে ৫০ ও ১০০০ টাকার নোট বাংলাদেশ ব্যাংককে বুঝিয়ে দেবে টাঁকশাল। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে এই টাকা কবে বাজারে আসবে।টাঁকশাল জানিয়েছে, নতুন নকশার নোট ছাপাতে ১ থেকে দেড় বছর সময় লাগে। আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। গত ডিসেম্বরে নতুন নকশার নোট বাজারে আনার সিদ্ধান্ত নেয় এই সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় টাঁকশাল চলতি মাসে নতুন নকশার নোট ছাপানো শুরু করে।টাঁকশাল আরও জানায়, একসঙ্গে ৩টি নোটের বেশি ছাপানোর সক্ষমতা নেই টাঁকশালের। তাই প্রথম ধাপে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোট ছাপানো হচ্ছে।এদিকে গভর্নর জানিয়েছে, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ায় তা ফেরত পাঠাতে চাপ তৈরি হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ ফ্রিজ করায় অর্থ ফেরত আনার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।’গভর্নর বলেন, ‘স্কিমের আওতায় পিকেএসএফ অংশীদার এমএফআই গুলোকে ২৪০ কোটি টাকার রিজার্ভ তহবিল ভিত্তিতে ব্যাংক ঋণ গ্যারান্টি দেবে। ঋণের গ্যারান্টি অনুযায়ী এককালীন ০.৫ শতাংশ কমিশন আদায় করা হবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণ পাওয়া সহজ হবে।’

পিছিয়ে পড়ছে দেশের সম্ভাবনাময় এসএমই খাত

ল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান মনে করেন, এসএমই খাত শুধু ব্যবসা নয়, দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। দেশে সত্যিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এ খাতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, এসএমই উদ্যোক্তারা তাদের লাভের ৩০ শতাংশই পুনরায় বিনিয়োগ করেন, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।এসএমই হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগ বা ব্যবসা। এই উদ্যোগে কর্মী এবং রাজস্বের পরিমাণ নির্দিষ্ট সীমার নিচে। বিশ্বের কোম্পানিগুলোর ৯০ শতাংশ এবং মোট কর্মসংস্থানে ৫০ শতাংশের বেশি এসএমই খাতে। এ কারণে বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এসএমইকে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। এসএমই নিয়ে তাদের আলাদা নীতিমালা রয়েছে।বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্যবসার ৯৯ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার ৯৮ শতাংশ এসএমই। তবে এ খাতে রয়েছে তহবিল সংকট।বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২১ সালের গ্লোবাল ফিনডেক্স ডাটাবেজ অনুসারে, আনুষ্ঠানিক, নারী-মালিকানাধীন এসএমইর জন্য ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘাটতি রয়েছে। এসএমই ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুসারে বর্তমানে দেশে এ শিল্পের সংখ্যা ১ কোটি ১৮ লাখ। আর এ খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষের। অর্থাৎ শিল্প খাতে দেশে কর্মসংস্থানের ৮৭ শতাংশই এ খাতের।

রোনো রাউটারকে Access Point (AP) Mode এ চালিয়ে ইথারনেট কেবলের মাধ্যমে মূল রাউটারের সঙ্গে যুক্ত করুন। এতে নেটওয়ার্কের গতি ও স্থায়িত্ব বেশি থাকবে। এর জন্য রাউটার রিসেট করে, ফার্মওয়্যার আপডেট করে, LAN থেকে WAN-এ কেবল সংযোগ দিয়ে ওয়েব সেটিংসে গিয়ে AP মোড চালু করতে হবে। ২. রিপিটার মোডে তারহীন সংযোগ যদি তার টানার সুযোগ না থাকে, তাহলে রিপিটার মোড ব্যবহার করুন। এতে পুরোনো রাউটার মূল ওয়াই-ফাই সংকেত ধরবে এবং নতুন নামে পুনঃসম্প্রচার করবে। তবে মনে রাখবেন, এতে ইন্টারনেটের গতি কিছুটা কমে যায়-প্রায় অর্ধেক হতে পারে। ৩. প্রতিটি রাউটারের পদ্ধতি আলাদা হতে পারে সব রাউটার AP বা রিপিটার মোড সমর্থন করে না। তাই রাউটারের ইউজার ম্যানুয়াল বা নির্মাতার ওয়েবসাইট থেকে নির্দেশনা দেখে নিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে থার্ড পার্টি ফার্মওয়্যার (যেমন: DD-WRT) ব্যবহার করেও বাড়তি ফিচার চালু করা সম্ভব।

অন্যদিকে একই বয়সি ছেলেদের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র প্রতি ১০ জনে একজন। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাজ্যের পাবলিক হেলথ ওয়েলস (PHW) ও কার্ডিফ ইউনিভার্সিটি।গবেষণায় দেখা গেছে, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েরাই সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। দশম শ্রেণির ১৪-১৫ বছর বয়সি ২১ শতাংশ মেয়ে এবং নবম শ্রেণির ১৩-১৪ বছর বয়সি ২০.৫ শতাংশ মেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে জানায়। ছেলেদের ক্ষেত্রে একই বয়সে এ হার যথাক্রমে ১০.১ এবং ৯.৮ শতাংশ। ১৩ বছর বয়সি লয়েস জানায়, ‘কখনো কখনো শুধু সময় কাটানোর জন্য ফোন হাতে নিই। কিন্তু বুঝতেই পারি না কখন দুই ঘণ্টা পেরিয়ে যায়! এটা মাঝেমধ্যে ভয় পাইয়ে দেয়।’ গবেষণায় অংশ নেওয়া অনেকে জানিয়েছে, খেলাধুলা বা শখের কাজ বাদ দিয়ে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় দিচ্ছে।পিএইচডব্লিও-এর স্বাস্থ্য উন্নয়ন পরামর্শক এমিলি ভ্যান দে ভেনটার জানান, মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বেশি সময় রাতেও ডিভাইস ব্যবহার করে এবং বেশি রিপোর্ট করে যে তারা সাইবার বুলিয়িংয়ের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু সুবিধা থাকলেও টিনএজারদের মানসিক স্বাস্থ্যর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও আত্মমূল্যায়নের ঘাটতির পেছনে এটি একটি বড় ভূমিকা রাখছে।’ তিনি আরও পরামর্শ দেন, রাতে ডিভাইসের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, ঘুমানোর ঘরে ফোন না রাখা এবং ঘুমের আগে সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশ না করার অভ্যাস তৈরি করলে সমস্যা কিছুটা কমে আসতে পারে। জরিপটিতে সপ্তম থেকে একাদশ শ্রেণির প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এটি কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, সম্পর্ক, স্কুল জীবন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের নানা দিককে ঘিরে সবচেয়ে বৃহৎ ও তথ্যবহুল জরিপগুলোর একটি

শনিবার (২৪ মে) সকালে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনে দেশের প্রথম ক্রেডিট এনহ্যান্সমেন্ট স্কিম উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।গভর্নর বলেন, ‘নতুন নোটে থাকবে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা। ঈদে বাজারে প্রথমে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট আসবে।’টাঁকশাল থেকে জানা গেছে, ২০ টাকার নোট ছাপা প্রায় সম্পন্ন। আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর পরে ৫০ ও ১০০০ টাকার নোট বাংলাদেশ ব্যাংককে বুঝিয়ে দেবে টাঁকশাল। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে এই টাকা কবে বাজারে আসবে।টাঁকশাল জানিয়েছে, নতুন নকশার নোট ছাপাতে ১ থেকে দেড় বছর সময় লাগে। আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। গত ডিসেম্বরে নতুন নকশার নোট বাজারে আনার সিদ্ধান্ত নেয় এই সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় টাঁকশাল চলতি মাসে নতুন নকশার নোট ছাপানো শুরু করে।টাঁকশাল আরও জানায়, একসঙ্গে ৩টি নোটের বেশি ছাপানোর সক্ষমতা নেই টাঁকশালের। তাই প্রথম ধাপে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোট ছাপানো হচ্ছে।এদিকে গভর্নর জানিয়েছে, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ায় তা ফেরত পাঠাতে চাপ তৈরি হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ ফ্রিজ করায় অর্থ ফেরত আনার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।’গভর্নর বলেন, ‘স্কিমের আওতায় পিকেএসএফ অংশীদার এমএফআই গুলোকে ২৪০ কোটি টাকার রিজার্ভ তহবিল ভিত্তিতে ব্যাংক ঋণ গ্যারান্টি দেবে। ঋণের গ্যারান্টি অনুযায়ী এককালীন ০.৫ শতাংশ কমিশন আদায় করা হবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণ পাওয়া সহজ হবে।’

ল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান মনে করেন, এসএমই খাত শুধু ব্যবসা নয়, দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। দেশে সত্যিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এ খাতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, এসএমই উদ্যোক্তারা তাদের লাভের ৩০ শতাংশই পুনরায় বিনিয়োগ করেন, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।এসএমই হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগ বা ব্যবসা। এই উদ্যোগে কর্মী এবং রাজস্বের পরিমাণ নির্দিষ্ট সীমার নিচে। বিশ্বের কোম্পানিগুলোর ৯০ শতাংশ এবং মোট কর্মসংস্থানে ৫০ শতাংশের বেশি এসএমই খাতে। এ কারণে বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এসএমইকে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। এসএমই নিয়ে তাদের আলাদা নীতিমালা রয়েছে।বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্যবসার ৯৯ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার ৯৮ শতাংশ এসএমই। তবে এ খাতে রয়েছে তহবিল সংকট।বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২১ সালের গ্লোবাল ফিনডেক্স ডাটাবেজ অনুসারে, আনুষ্ঠানিক, নারী-মালিকানাধীন এসএমইর জন্য ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘাটতি রয়েছে। এসএমই ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুসারে বর্তমানে দেশে এ শিল্পের সংখ্যা ১ কোটি ১৮ লাখ। আর এ খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষের। অর্থাৎ শিল্প খাতে দেশে কর্মসংস্থানের ৮৭ শতাংশই এ খাতের।

চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। গত সোমবার বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার দিন আগে ঝড়-বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এতে দুই উপজেলার কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এ ঘটনার পর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে ফসলের খেতে পানি দিতে পারছে না। মোবাইল ফোন চার্জ করা যাচ্ছে না। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসাবাণিজ্য। দৈনন্দিন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আবদুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এরপর থেকে প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

০৩ জুলাই ২০২৬
তিস্তাপারে আলোর মিছিল

তিস্তাপারে আলোর মিছিল

প্রধানমন্ত্রীর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল করেছে ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’। বুধবার সন্ধ্যায় তিস্তা অববাহিকার পাঁচ জেলার বিভিন্ন স্থানে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে আলোর মিছিল বের করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই সময়ে গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তাতীরবর্তী আট স্থানে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। নীলফামারীর জলঢাকার শৈলমারী ও বানপাড়া; কুড়িগ্রামের রাজারহাটের বুড়িরহাট ও উলিপুরের হোকোডাঙা; রংপুরের গঙ্গাচড়া এবং তিস্তাতীরবর্তী অন্যান্য এলাকায়ও গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তবে তিস্তাপারের মানুষ আর নতুন প্রতিশ্রুতি নয়, প্রকল্পটির দ্রুত একনেক অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি দেখতে চায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’ সমাবেশ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত একনেক অনুমোদন ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণা; অভিজ্ঞ নদী প্রকৌশলী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং তিস্তা আন্দোলনের প্রতিনিধি সমন্বয়ে ‘তিস্তা কর্তৃপক্ষ’ গঠন; দক্ষ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ; সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘তিস্তা বন্ড’ চালু; ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

০৩ জুলাই ২০২৬
মিয়ানমারের রাখাইনে বিমান বিস্ফোরণের শব্দ, সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

মিয়ানমারের রাখাইনে বিমান বিস্ফোরণের শব্দ, সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর মুহুর্মুহু বিমান হামলায় কেঁপে উঠছে টেকনাফ-উখিয়া সীমান্ত, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের কঠোর পাহারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপে ক্ষমতাসীন সরকারি জান্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) লড়াই এখন চরম আকার ধারণ করেছে। আরাকান আর্মির বিভিন্ন অবস্থানকে লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনী যুদ্ধবিমান থেকে অনবরত ও তীব্র বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল রাতভর মংডু সীমান্তে যুদ্ধবিমান থেকে ছিটকে আসা একের পর এক শক্তিশালী বোমার বিকট শব্দ এবং গোলাবর্ষণের তীব্র আওয়াজে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্ত এলাকাগুলো। ওপারে এই সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর নতুন করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢোকার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভুত এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে নাফ নদীসহ পুরো সীমান্তজুড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ডের টহল তৎপরতা বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, হ্নীলা, হোয়াইক্যং এবং নেটংপাড়া সীমান্ত এলাকাগুলোতে সরেজমিনে এক থমথমে ও থমকে যাওয়া পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। থমথমে অবস্থার কারণে সীমান্তে স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল অনেকটাই সীমিত হয়ে এসেছে। নাফ নদীতে নিয়োজিত স্থানীয় জেলেরা অত্যন্ত সতর্কতা ও ভয়ের সঙ্গে মাছ ধরার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সীমান্ত নিরাপত্তার খাতিরে পুরো এলাকাজুড়ে বিজিবি এবং কোস্টগার্ডের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন ও কঠোর টহল দিতে দেখা গেছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, রাখাইন রাজ্যের বর্তমান রাজধানী সিত্তে (আকিয়াব) এলাকা থেকে জান্তা বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে উড়ে আসছে। এরপর সেখান থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মংডু এলাকায় আরাকান আর্মির ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে আবার ঘাঁটিতে ফিরে যাচ্ছে। প্রতিটি হামলার সময় একসঙ্গে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি অতি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এসব বোমা বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি যে নাফ নদীর এপারে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি পর্যন্ত তীব্রভাবে কেঁপে উঠছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে মংডু টাউনশিপে জান্তা বাহিনীর এই তীব্র বিমান হামলা শুরু হয়। রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত চলা টানা দুই ঘণ্টার এই অভিযানে দুটি যুদ্ধবিমান থেকে অন্তত ২৭ বার বোমাবর্ষণ ও হামলা চালানো হয়েছে। জান্তা বাহিনীর এই আক্রমণের মুখে আরাকান আর্মিও বসে থাকেনি, তারাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে জবাব দিয়েছে। টেকনাফ সীমান্তের বাসিন্দারা ওপারে ঘটা এই যুদ্ধের আগুনের তীব্র ঝলকানি এবং বিকট বিস্ফোরণের শব্দ স্পষ্টভাবে দেখতে ও শুনতে পেয়েছেন। এই বিষয়ে উখিয়া-৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গতকাল রাতের বেলা রাখাইনের ভেতরে তীব্র বিমান হামলার বিকট শব্দ শোনা গেলেও আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নতুন করে তেমন কোনো বড় ঘটনা ঘটেনি। সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। ওপার থেকে কোনোভাবেই যেন নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটতে না পারে, সে জন্য নাফ নদীতে অতিরিক্ত টহল দল মোতায়েন করা হয়েছে। আজ বিকেল পর্যন্ত বাংলাদেশের সীমান্তে কোনো গুলি এসে পড়ার বা কোনো ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। এদিকে সবրան্দ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান এবং হোয়াইক্যং ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল চৌধুরী একই ধরণের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ওপারের সংঘাত যদি সামনের দিনগুলোতে আরও বৃদ্ধি পায়, তবে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা দলে দলে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করার মরিয়া চেষ্টা চালাতে পারে। উখিয়া এলাকার একটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের অন্যতম নেতা মো. জুবায়েরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর এই ভয়াবহ বিমান হামলায় অসংখ্য ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে এবং কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন। একই সময়ে আকাশপথের পাশাপাশি স্থলপথেও আরাকান আর্মির সঙ্গে আরও তিনটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর তুমুল সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বহুমুখী এই সংঘর্ষের কারণে রাখাইনের সার্বিক পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল ও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র হলে এই বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষ কোনো উপায় না পেয়ে আশ্রয়ের খোঁজে বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হতে পারে বলে তিনি বড় ধরণের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পরিসংখ্যান ও পূর্বের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ ১১ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুথিডং এবং রাথেডংসহ প্রায় ৮০ শতাংশ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় আরাকান আর্মি। বর্তমানে শুধুমাত্র রাজধানী সিত্তে এলাকাটি মিয়ানমারের সরকারি জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সীমান্ত সূত্রগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে মংডু অভিমুখে পরিচালিত সবকটি বিমান হামলা মূলত এই সিত্তে রাজধানী থেকেই নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা হচ্ছে। মিয়ানমারভিত্তিক বেশ কয়েকটি স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গতকাল বুথিডং টাউনশিপের একটি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং সেখানে অন্তত ১০টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগেও গত ১৭ এবং ২৪ জুন মংডু ও কিয়াউকতাও এলাকায় পৃথক দুটি বিমান হামলা চালিয়েছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী, যেখানে বেশ কিছু সাধারণ নাগরিক হতাহত হন। সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া স্পষ্ট করে বলেছেন, সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের শিথিলতা না রেখে নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সুর শোনা গেছে স্থানীয় প্রশাসনের কণ্ঠেও। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী জানিয়েছেন, আজ দিনভর সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত ছিল। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

০৩ জুলাই ২০২৬
প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে তরুণীর অনশন

প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে তরুণীর অনশন

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে অনশন করছেন এক তরুণী। বিয়ের দাবিতে উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে অনশন করছেন ওই তরুণী। তবে ওই তরুণীকে পাত্তা দিচ্ছে না প্রেমিকের পরিবার। এতে অনেকটা মানবতার জীবনযাপন করছেন ওই তরুণী। বৃহস্পতিবার উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গিয়ে ওই তরুণীকে অনশনে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই ওই বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। ওই তরুণীর দাবি, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিম শিদলাই গ্রামের ওহাব আলী খনকার বাড়ির মো. আবু কালামের ছেলে আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। তার দাবি, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আবু সাইদ তাকে দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর তিনি বিয়ের বিষয়টি তুললে আবু সাইদ তাকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। পরে প্রেমিকের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণপাড়ার পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গেলে আবু সাইদ তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। পরে চেয়ারম্যান উভয়পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালেই আবু সাইদ সেখান থেকে চলে যান। এরপর থেকেই ওই তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন। ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, সে আমার জীবনের অনেক ক্ষতি করেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন সে আমাকে বিয়ে করবে, না হলে আমি এই বাড়ি থেকে ফিরব না। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত ১২ দিন ধরে তরুণীটি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবক আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও যুবকের পরিবার সহযোগিতা করেনি। পরে পরিবারের সদস্যরাও বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে দাবি করেন তারা। শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আকবর আলাউল বলেন, উভয়পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি; কিন্তু ছেলেটি বৈঠক থেকে চলে যায় এবং তার পরিবারও বিয়েতে রাজি নয়। পরে ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছি। তবে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত আবু সাইদ ও তার পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

০৩ জুলাই ২০২৬
এক বছর সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক, শেষ রক্ষা হলো না শাহিদার

এক বছর সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক, শেষ রক্ষা হলো না শাহিদার

একটি অর্থঋণ মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এড়াতে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছদ্মবেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন মোছা. শাহিদা আক্তার। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নাটোরের লালপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল রংপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত শাহিদাকে নাটোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে বুধবার (১ জুলাই) রাতে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার আলমনগর মহাদেবপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া শাহিদা আক্তার নাটোরের লালপুর উপজেলার উত্তর লালপুর গ্রামের আকতার হোসেনের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি অর্থঋণ সংক্রান্ত মামলা চলছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ওই মামলায় শাহিদা আক্তারকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। আদালতের রায়ের পর থেকেই আইনি সাজা এড়াতে শাহিদা আক্তার সম্পূর্ণ আত্মগোপনে চলে যান। নিজের আসল পরিচয় গোপন করে গত ৯ বছর ধরে তিনি দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাযাবরের মতো জীবনযাপন করছিলেন। তবে লালপুর থানা পুলিশ আসামিকে আইনের আওতায় আনতে তৎপর ছিল। অবশেষে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট সহায়তায় শাহিদার বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করতে পারে পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে লালপুর থানার একটি দল সুদূর রংপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামি শাহিদা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত চতুরতার সাথে পলাতক ছিলেন। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও প্রযুক্তির সাহায্যে বুধবার রাতে আমরা তাকে রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

০৩ জুলাই ২০২৬
ভাঙনে ছোট হচ্ছে দেওয়ানগঞ্জ

ভাঙনে ছোট হচ্ছে দেওয়ানগঞ্জ

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে যমুনা নদীর বাম তীরে বছরের পর বছর চলছে ভাঙন। বিলীন হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। বাস্তুচ্যুত হয়েছে অসংখ্য মানুষ। গত কয়েক মাসে অব্যাহত ভাঙনে নদীতে হারিয়ে গেছে ২ শতাধিক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এরমধ্যে গত এক সপ্তাহে পাহাড়ি ঢলে পাথরেরচর লোকাই ঝোরার তীরে ভাঙনে ভেসে গেছে অন্তত ২০টি বাড়ি। প্রতিনিয়ত ছোট হয়ে আসছে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মানচিত্র। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সূত্র জানায়, গত দুই দশকে দেওয়ানগঞ্জের খোলাবাড়ি, হাজারী, চর মাগুরিহাট, চর ডাকাতিয়াপাড়া, খানপাড়া, মাঝিপাড়াসহ বহু গ্রাম যমুনায় বিলীন হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে কয়েক শ পরিবার। খোলাবাড়ি, চর ডাকাতিয়া ও বড়খালে ভাঙন নতুন কোনো বিষয় নয়। যমুনার এমন করাল গ্রাস দেখে অভ্যস্ত এসব এলাকার বাসিন্দারা। তবে চার মাস ধওে খোলাবাড়ি থেকে চর ডাকাতিয়া হয়ে বড়খাল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে অব্যাহত ভাঙন মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বাড়িয়েছে। চলতি বছর ইতোমধ্যে ২ শতাধিক বসতবাড়ি যমুনায় হারিয়ে গেছে। নদী গ্রাস করেছে কৃষকের ফসলি জমি। অনেক স্থানে ভেসে গেছে স্বজনদের শেষ স্মৃতিচিহ্ন টুকুও (কবর)। স্থানীয়রা জানান, যমুনা দিনের বেলা যতটা না আগ্রাসী, তার চেয়ে বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠে রাতে। আতঙ্কে রাত কাটে নদীর পাড়ের মানুষের। ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ ফেললেও কাজে আসছে না। ফলে আরও বসতভিটা, রাস্তা, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আর ফসলি জমি নদীতে বিলীনের শঙ্কা রয়েছে। ভাঙনে নিঃস্ব অনেকের ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। কেউ কেউ ভয়ে বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিেেচ্ছন। একই উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরেরচর এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। অব্যাহত ভাঙনের মুখে বাধ্য হয়ে বসতবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামের একমাত্র রাস্তার শেষ অংশটুকু রক্ষা করতে বাঁশের বেড়া দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। নদীতীরের মানুষের দাবি-সাময়িকভাবে নয়, ভাঙন ঠেকাতে দরকার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান বলেন, চর ডাকাতিয়া, খোলাবাড়ি এলাকায় যমুনার ভাঙন রোধে ৫১৩ মিটারে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে। কাজ প্রায় শেষদিকে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে। পাথরেরচর লোকাই ঝোরার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে ভাঙন ঠেকাতে ২৪০ মিটারে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

০৩ জুলাই ২০২৬
বোমা ভেবে আতঙ্ক, পুলিশ গিয়ে পেল মিউজিক ডিভাইস

বোমা ভেবে আতঙ্ক, পুলিশ গিয়ে পেল মিউজিক ডিভাইস

রাজশাহীতে স্কুটিতে লাগিয়ে দেওয়া একটি ডিভাইস নিয়ে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটেছে। স্কুটির মালিক এই ডিভাইসটিকে বোমা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো আরডিএ মার্কেট এলাকায়।  খবর পেয়ে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে ডিভাইসটি আসলে মোটরসাইকেলের একটি মিউজিক ডিভাইস। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মহানগরীর সাহেববাজার আরডিএ মার্কেটের নিচতলায় সাত নম্বর গলিতে এ ঘটনা ঘটে।  পুলিশ বলছে, আতঙ্ক ছড়াতে এক যুবক ইচ্ছাকৃতভাবেই এই কাজটি করেছেন। জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর কারণে তাকে শনাক্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে অজ্ঞাত এক যুবক স্কুটিতে ডিভাইসটি লাগিয়ে দিয়ে চলে যান। পরে এর মালিক সেটি দেখে বোমা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এরপর পুরো মার্কেটেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়। খবর পেয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা সেখানে আসেন। আরএমপির মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘স্কুটিতে লাগিয়ে দেওয়া ডিভাইসটি আসলে মিউজিক ডিভাইস। এটি মোটরসাইকেলেই ব্যবহার করা হয়। আতঙ্ক ছড়াতে এটি এক যুবক ওই স্কুটিতে লাগিয়ে দেয়। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে দেখে এটি মিউজিক ডিভাইস। পরে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে পুলিশ ফিরে আসে।’ তিনি জানান, জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো একটি অপরাধ। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তারা আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

০৩ জুলাই ২০২৬
বোমা ভেবে আতঙ্ক, পুলিশ গিয়ে পেল মিউজিক ডিভাইস

বোমা ভেবে আতঙ্ক, পুলিশ গিয়ে পেল মিউজিক ডিভাইস

রাজশাহীতে স্কুটিতে লাগিয়ে দেওয়া একটি ডিভাইস নিয়ে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটেছে। স্কুটির মালিক এই ডিভাইসটিকে বোমা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো আরডিএ মার্কেট এলাকায়।  খবর পেয়ে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে ডিভাইসটি আসলে মোটরসাইকেলের একটি মিউজিক ডিভাইস। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মহানগরীর সাহেববাজার আরডিএ মার্কেটের নিচতলায় সাত নম্বর গলিতে এ ঘটনা ঘটে।  পুলিশ বলছে, আতঙ্ক ছড়াতে এক যুবক ইচ্ছাকৃতভাবেই এই কাজটি করেছেন। জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর কারণে তাকে শনাক্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে অজ্ঞাত এক যুবক স্কুটিতে ডিভাইসটি লাগিয়ে দিয়ে চলে যান। পরে এর মালিক সেটি দেখে বোমা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এরপর পুরো মার্কেটেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়। খবর পেয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা সেখানে আসেন। আরএমপির মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘স্কুটিতে লাগিয়ে দেওয়া ডিভাইসটি আসলে মিউজিক ডিভাইস। এটি মোটরসাইকেলেই ব্যবহার করা হয়। আতঙ্ক ছড়াতে এটি এক যুবক ওই স্কুটিতে লাগিয়ে দেয়। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে দেখে এটি মিউজিক ডিভাইস। পরে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে পুলিশ ফিরে আসে।’ তিনি জানান, জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো একটি অপরাধ। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তারা আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

০৩ জুলাই ২০২৬
পা দিয়ে লিখে স্বপ্ন পূরণ করতে চান কলি রানী

পা দিয়ে লিখে স্বপ্ন পূরণ করতে চান কলি রানী

পরীক্ষার কক্ষে সবাই বেঞ্চে বসে লিখে যাচ্ছেন খাতায়। তাঁদের পাশে বসে লিখছেন আরেক শিক্ষার্থী কলি রানী। তাঁকে দেওয়া হয়েছে ছোট বেঞ্চ। আর সেখানে বসেই মনোযোগসহকারে পা দিয়ে উত্তর লিখে যাচ্ছেন তিনি। দূর থেকে একনজরে দেখলে কলি রানীকে স্বাভাবিক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। দুই পায়ে হাঁটাচলা করতে পারলেও বাহু থেকে দুই হাতের কবজি নেই। কিন্তু প্রতিবন্ধিতা তাঁকে দমাতে পারেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় কলি রানী রংপুরের কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে মানবিক বিভাগের পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি ওই উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নে গদাই গ্রামের রুপালী রানীর মেয়ে। কলি রানীর জন্ম থেকে দুই হাতের কবজি নাই। কিন্তু পড়ালেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ আর মনের জোরে কারও সহযোগিতা ছাড়াই পা দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। মৃত মনোরঞ্জন রায়ের ৬ ছেলেমেয়ের মধ্যে কলি রানী সবার ছোট। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে ডিঙিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বপ্ন পূরণের আশায়। কলি রানী লেখাপড়ার পাশাপাশি ইতিমধ্যে গান গেয়ে একাধিক সম্মাননা স্মারক অর্জন করেছেন। এ ছাড়া পা দিয়ে চালাতে পারেন কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন। কলি রানী জানান, তাঁর ইচ্ছা পড়ালেখা শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হয়ে মানুষের সেবা করা। কাউনিয়া মহিলা কলেজের কেন্দ্রসচিব রফিকুল ইসলাম জানান, কলি রানী শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিয়ম মেনে তাঁকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট দেওয়া হয়েছে। ইউএনও পাপিয়া সুলতানা জানান, কলি রানীকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আটকাতে পারেনি। তার অদম্য অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায়।

০৩ জুলাই ২০২৬
ওষুধের তীব্র সংকটব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

ওষুধের তীব্র সংকটব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

মৌলভীবাজারে তীব্র ওষুধসংকট, জনবল ঘাটতি, দায়িত্বে অবহেলাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। ফলে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় ১১ লাখ মানুষ এসব ক্লিনিক থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের ৭ উপজেলা মিলিয়ে মোট ১৮৬ কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। ক্লিনিকে সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করার কথা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি)। এ ছাড়া তিন দিন স্বাস্থ্য সহকারী এবং বাকি তিন দিন পরিবার কল্যাণ সহকারীর কাজ করার কথা। ক্লিনিকগুলোতে ২২ ধরনের ওষুধ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পাওয়া যাচ্ছে না। হাতে গোনা কয়েকটি ক্লিনিকে বড়জোর প্যারাসিটামল, মেট্রিল আর স্যালাইন পাওয়া যায়। বেশির ভাগ ক্লিনিক কার্যত ওষুধশূন্য অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলা পতনঊষার শ্রীসূর্য্য কমিউনিটি ক্লিনিকে দেখা যায়, সিএইচসিপি বসে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দুপুর পর্যন্ত কোনো রোগী আসেননি। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের লাইয়ারকুল কমিউিনিটি ক্লিনিক, উপজেলার কাকিয়াছড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, সিন্দুরখান ইউনিয়নের সাইটুলা ক্লিনিক, রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের সালন কমিউনিটি ক্লিনিক দুপুরের মধ্যেই বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানান, কর্তৃপক্ষের ইচ্ছেমতো সময়ে ক্লিনিক খোলা হয়। ক্লিনিকের লোকজন বেলা ২টার মধ্যেই চলে যায়। বেশির ভাগ ক্লিনিকে সিএইচসিপি ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় না। সেবাগ্রহীতা কেউ আসলে ওষুধ সংকটের কথা বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কমলগঞ্জের সাবিনা আক্তার বলেন, ‘এক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে আগের মতো ওষুধ পাই না। কোনো অ্যান্টিবায়োটিক নেই। এ জন্য এখন অনেকেই ক্লিনিকে যাওয়া বাদ দিয়ে দিতাছে।’ রাজনগরের নিদনপুর গ্রামের ফাতিহা বেগম বলেন, ‘আমি আলসারের রোগী। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারি না। ৪ মাস ধরে ক্লিনিকে এসে কোনো ওষুধ পাইনি।’ স্থানীয় ইমাম আব্দুন নুর বলেন, আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকে যায়। কিন্তু ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে তারা। এভাবে চলতে থাকলে গরিব মানুষ চরম বিপদে পড়বে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শ্যামেরকোনা কমিউনিটি ক্লিনিক সিএইচসিপি জান্নাত আরা বেগম বলেন, ‘আমাদের এখানে ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। ওষুধ না থাকায় রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করছেন। মৌলভীবাজার জেলা সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুবেল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের অফিস থেকেও ঢাকায় যোগাযোগ করা হয়েছে। আমাদের বলা হচ্ছে, শিগগির ওষুধসংকট নিরসন হবে।’ শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় আগে তিন কার্টন ওষুধ আসত, এখন এক কার্টন আসে।’ মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করে। আগের চেয়ে ওষুধ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জনবলের সংকট রয়েছে।

০৩ জুলাই ২০২৬

চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। গত সোমবার বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার দিন আগে ঝড়-বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এতে দুই উপজেলার কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এ ঘটনার পর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে ফসলের খেতে পানি দিতে পারছে না। মোবাইল ফোন চার্জ করা যাচ্ছে না। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসাবাণিজ্য। দৈনন্দিন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আবদুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এরপর থেকে প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

০৩ জুলাই ২০২৬

জেলার খবর

চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। গত সোমবার বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার দিন আগে ঝড়-বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এতে দুই উপজেলার কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এ ঘটনার পর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে ফসলের খেতে পানি দিতে পারছে না। মোবাইল ফোন চার্জ করা যাচ্ছে না। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসাবাণিজ্য। দৈনন্দিন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আবদুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এরপর থেকে প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

০২ মে ২০২৫
তিস্তাপারে আলোর মিছিল

তিস্তাপারে আলোর মিছিল

প্রধানমন্ত্রীর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল করেছে ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’। বুধবার সন্ধ্যায় তিস্তা অববাহিকার পাঁচ জেলার বিভিন্ন স্থানে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে আলোর মিছিল বের করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই সময়ে গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তাতীরবর্তী আট স্থানে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। নীলফামারীর জলঢাকার শৈলমারী ও বানপাড়া; কুড়িগ্রামের রাজারহাটের বুড়িরহাট ও উলিপুরের হোকোডাঙা; রংপুরের গঙ্গাচড়া এবং তিস্তাতীরবর্তী অন্যান্য এলাকায়ও গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তবে তিস্তাপারের মানুষ আর নতুন প্রতিশ্রুতি নয়, প্রকল্পটির দ্রুত একনেক অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি দেখতে চায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’ সমাবেশ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত একনেক অনুমোদন ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণা; অভিজ্ঞ নদী প্রকৌশলী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং তিস্তা আন্দোলনের প্রতিনিধি সমন্বয়ে ‘তিস্তা কর্তৃপক্ষ’ গঠন; দক্ষ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ; সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘তিস্তা বন্ড’ চালু; ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। গত সোমবার বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার দিন আগে ঝড়-বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এতে দুই উপজেলার কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এ ঘটনার পর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে ফসলের খেতে পানি দিতে পারছে না। মোবাইল ফোন চার্জ করা যাচ্ছে না। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসাবাণিজ্য। দৈনন্দিন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আবদুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এরপর থেকে প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে তরুণীর অনশন

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে অনশন করছেন এক তরুণী। বিয়ের দাবিতে উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে অনশন করছেন ওই তরুণী। তবে ওই তরুণীকে পাত্তা দিচ্ছে না প্রেমিকের পরিবার। এতে অনেকটা মানবতার জীবনযাপন করছেন ওই তরুণী। বৃহস্পতিবার উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গিয়ে ওই তরুণীকে অনশনে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই ওই বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। ওই তরুণীর দাবি, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিম শিদলাই গ্রামের ওহাব আলী খনকার বাড়ির মো. আবু কালামের ছেলে আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। তার দাবি, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আবু সাইদ তাকে দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর তিনি বিয়ের বিষয়টি তুললে আবু সাইদ তাকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। পরে প্রেমিকের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণপাড়ার পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গেলে আবু সাইদ তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। পরে চেয়ারম্যান উভয়পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালেই আবু সাইদ সেখান থেকে চলে যান। এরপর থেকেই ওই তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন। ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, সে আমার জীবনের অনেক ক্ষতি করেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন সে আমাকে বিয়ে করবে, না হলে আমি এই বাড়ি থেকে ফিরব না। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত ১২ দিন ধরে তরুণীটি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবক আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও যুবকের পরিবার সহযোগিতা করেনি। পরে পরিবারের সদস্যরাও বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে দাবি করেন তারা। শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আকবর আলাউল বলেন, উভয়পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি; কিন্তু ছেলেটি বৈঠক থেকে চলে যায় এবং তার পরিবারও বিয়েতে রাজি নয়। পরে ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছি। তবে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত আবু সাইদ ও তার পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে তরুণীর অনশন

এক বছর সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক, শেষ রক্ষা হলো না শাহিদার

একটি অর্থঋণ মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এড়াতে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছদ্মবেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন মোছা. শাহিদা আক্তার। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নাটোরের লালপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল রংপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত শাহিদাকে নাটোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে বুধবার (১ জুলাই) রাতে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার আলমনগর মহাদেবপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া শাহিদা আক্তার নাটোরের লালপুর উপজেলার উত্তর লালপুর গ্রামের আকতার হোসেনের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি অর্থঋণ সংক্রান্ত মামলা চলছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ওই মামলায় শাহিদা আক্তারকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। আদালতের রায়ের পর থেকেই আইনি সাজা এড়াতে শাহিদা আক্তার সম্পূর্ণ আত্মগোপনে চলে যান। নিজের আসল পরিচয় গোপন করে গত ৯ বছর ধরে তিনি দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাযাবরের মতো জীবনযাপন করছিলেন। তবে লালপুর থানা পুলিশ আসামিকে আইনের আওতায় আনতে তৎপর ছিল। অবশেষে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট সহায়তায় শাহিদার বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করতে পারে পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে লালপুর থানার একটি দল সুদূর রংপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামি শাহিদা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত চতুরতার সাথে পলাতক ছিলেন। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও প্রযুক্তির সাহায্যে বুধবার রাতে আমরা তাকে রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এক বছর সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক, শেষ রক্ষা হলো না শাহিদার

ভাঙনে ছোট হচ্ছে দেওয়ানগঞ্জ

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে যমুনা নদীর বাম তীরে বছরের পর বছর চলছে ভাঙন। বিলীন হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। বাস্তুচ্যুত হয়েছে অসংখ্য মানুষ। গত কয়েক মাসে অব্যাহত ভাঙনে নদীতে হারিয়ে গেছে ২ শতাধিক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এরমধ্যে গত এক সপ্তাহে পাহাড়ি ঢলে পাথরেরচর লোকাই ঝোরার তীরে ভাঙনে ভেসে গেছে অন্তত ২০টি বাড়ি। প্রতিনিয়ত ছোট হয়ে আসছে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মানচিত্র। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সূত্র জানায়, গত দুই দশকে দেওয়ানগঞ্জের খোলাবাড়ি, হাজারী, চর মাগুরিহাট, চর ডাকাতিয়াপাড়া, খানপাড়া, মাঝিপাড়াসহ বহু গ্রাম যমুনায় বিলীন হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে কয়েক শ পরিবার। খোলাবাড়ি, চর ডাকাতিয়া ও বড়খালে ভাঙন নতুন কোনো বিষয় নয়। যমুনার এমন করাল গ্রাস দেখে অভ্যস্ত এসব এলাকার বাসিন্দারা। তবে চার মাস ধওে খোলাবাড়ি থেকে চর ডাকাতিয়া হয়ে বড়খাল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে অব্যাহত ভাঙন মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বাড়িয়েছে। চলতি বছর ইতোমধ্যে ২ শতাধিক বসতবাড়ি যমুনায় হারিয়ে গেছে। নদী গ্রাস করেছে কৃষকের ফসলি জমি। অনেক স্থানে ভেসে গেছে স্বজনদের শেষ স্মৃতিচিহ্ন টুকুও (কবর)। স্থানীয়রা জানান, যমুনা দিনের বেলা যতটা না আগ্রাসী, তার চেয়ে বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠে রাতে। আতঙ্কে রাত কাটে নদীর পাড়ের মানুষের। ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ ফেললেও কাজে আসছে না। ফলে আরও বসতভিটা, রাস্তা, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আর ফসলি জমি নদীতে বিলীনের শঙ্কা রয়েছে। ভাঙনে নিঃস্ব অনেকের ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। কেউ কেউ ভয়ে বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিেেচ্ছন। একই উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরেরচর এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। অব্যাহত ভাঙনের মুখে বাধ্য হয়ে বসতবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামের একমাত্র রাস্তার শেষ অংশটুকু রক্ষা করতে বাঁশের বেড়া দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। নদীতীরের মানুষের দাবি-সাময়িকভাবে নয়, ভাঙন ঠেকাতে দরকার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান বলেন, চর ডাকাতিয়া, খোলাবাড়ি এলাকায় যমুনার ভাঙন রোধে ৫১৩ মিটারে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে। কাজ প্রায় শেষদিকে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে। পাথরেরচর লোকাই ঝোরার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে ভাঙন ঠেকাতে ২৪০ মিটারে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভাঙনে ছোট হচ্ছে দেওয়ানগঞ্জ

চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। গত সোমবার বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার দিন আগে ঝড়-বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এতে দুই উপজেলার কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এ ঘটনার পর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে ফসলের খেতে পানি দিতে পারছে না। মোবাইল ফোন চার্জ করা যাচ্ছে না। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসাবাণিজ্য। দৈনন্দিন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আবদুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এরপর থেকে প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

০৩ জুলাই ২০২৬
চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক
তিস্তাপারে আলোর মিছিল

তিস্তাপারে আলোর মিছিল

প্রধানমন্ত্রীর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল করেছে ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’। বুধবার সন্ধ্যায় তিস্তা অববাহিকার পাঁচ জেলার বিভিন্ন স্থানে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে আলোর মিছিল বের করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই সময়ে গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তাতীরবর্তী আট স্থানে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। নীলফামারীর জলঢাকার শৈলমারী ও বানপাড়া; কুড়িগ্রামের রাজারহাটের বুড়িরহাট ও উলিপুরের হোকোডাঙা; রংপুরের গঙ্গাচড়া এবং তিস্তাতীরবর্তী অন্যান্য এলাকায়ও গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তবে তিস্তাপারের মানুষ আর নতুন প্রতিশ্রুতি নয়, প্রকল্পটির দ্রুত একনেক অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি দেখতে চায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’ সমাবেশ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত একনেক অনুমোদন ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণা; অভিজ্ঞ নদী প্রকৌশলী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং তিস্তা আন্দোলনের প্রতিনিধি সমন্বয়ে ‘তিস্তা কর্তৃপক্ষ’ গঠন; দক্ষ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ; সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘তিস্তা বন্ড’ চালু; ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। গত সোমবার বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার দিন আগে ঝড়-বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এতে দুই উপজেলার কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এ ঘটনার পর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে ফসলের খেতে পানি দিতে পারছে না। মোবাইল ফোন চার্জ করা যাচ্ছে না। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসাবাণিজ্য। দৈনন্দিন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আবদুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এরপর থেকে প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে তরুণীর অনশন

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে অনশন করছেন এক তরুণী। বিয়ের দাবিতে উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে অনশন করছেন ওই তরুণী। তবে ওই তরুণীকে পাত্তা দিচ্ছে না প্রেমিকের পরিবার। এতে অনেকটা মানবতার জীবনযাপন করছেন ওই তরুণী। বৃহস্পতিবার উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গিয়ে ওই তরুণীকে অনশনে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই ওই বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। ওই তরুণীর দাবি, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিম শিদলাই গ্রামের ওহাব আলী খনকার বাড়ির মো. আবু কালামের ছেলে আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। তার দাবি, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আবু সাইদ তাকে দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর তিনি বিয়ের বিষয়টি তুললে আবু সাইদ তাকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। পরে প্রেমিকের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণপাড়ার পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গেলে আবু সাইদ তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। পরে চেয়ারম্যান উভয়পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালেই আবু সাইদ সেখান থেকে চলে যান। এরপর থেকেই ওই তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন। ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, সে আমার জীবনের অনেক ক্ষতি করেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন সে আমাকে বিয়ে করবে, না হলে আমি এই বাড়ি থেকে ফিরব না। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত ১২ দিন ধরে তরুণীটি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবক আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও যুবকের পরিবার সহযোগিতা করেনি। পরে পরিবারের সদস্যরাও বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে দাবি করেন তারা। শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আকবর আলাউল বলেন, উভয়পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি; কিন্তু ছেলেটি বৈঠক থেকে চলে যায় এবং তার পরিবারও বিয়েতে রাজি নয়। পরে ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছি। তবে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত আবু সাইদ ও তার পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে তরুণীর অনশন

এক বছর সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক, শেষ রক্ষা হলো না শাহিদার

একটি অর্থঋণ মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এড়াতে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছদ্মবেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন মোছা. শাহিদা আক্তার। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নাটোরের লালপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল রংপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত শাহিদাকে নাটোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে বুধবার (১ জুলাই) রাতে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার আলমনগর মহাদেবপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া শাহিদা আক্তার নাটোরের লালপুর উপজেলার উত্তর লালপুর গ্রামের আকতার হোসেনের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি অর্থঋণ সংক্রান্ত মামলা চলছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ওই মামলায় শাহিদা আক্তারকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। আদালতের রায়ের পর থেকেই আইনি সাজা এড়াতে শাহিদা আক্তার সম্পূর্ণ আত্মগোপনে চলে যান। নিজের আসল পরিচয় গোপন করে গত ৯ বছর ধরে তিনি দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাযাবরের মতো জীবনযাপন করছিলেন। তবে লালপুর থানা পুলিশ আসামিকে আইনের আওতায় আনতে তৎপর ছিল। অবশেষে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট সহায়তায় শাহিদার বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করতে পারে পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে লালপুর থানার একটি দল সুদূর রংপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামি শাহিদা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত চতুরতার সাথে পলাতক ছিলেন। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও প্রযুক্তির সাহায্যে বুধবার রাতে আমরা তাকে রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এক বছর সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক, শেষ রক্ষা হলো না শাহিদার

ভাঙনে ছোট হচ্ছে দেওয়ানগঞ্জ

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে যমুনা নদীর বাম তীরে বছরের পর বছর চলছে ভাঙন। বিলীন হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। বাস্তুচ্যুত হয়েছে অসংখ্য মানুষ। গত কয়েক মাসে অব্যাহত ভাঙনে নদীতে হারিয়ে গেছে ২ শতাধিক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এরমধ্যে গত এক সপ্তাহে পাহাড়ি ঢলে পাথরেরচর লোকাই ঝোরার তীরে ভাঙনে ভেসে গেছে অন্তত ২০টি বাড়ি। প্রতিনিয়ত ছোট হয়ে আসছে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মানচিত্র। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সূত্র জানায়, গত দুই দশকে দেওয়ানগঞ্জের খোলাবাড়ি, হাজারী, চর মাগুরিহাট, চর ডাকাতিয়াপাড়া, খানপাড়া, মাঝিপাড়াসহ বহু গ্রাম যমুনায় বিলীন হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে কয়েক শ পরিবার। খোলাবাড়ি, চর ডাকাতিয়া ও বড়খালে ভাঙন নতুন কোনো বিষয় নয়। যমুনার এমন করাল গ্রাস দেখে অভ্যস্ত এসব এলাকার বাসিন্দারা। তবে চার মাস ধওে খোলাবাড়ি থেকে চর ডাকাতিয়া হয়ে বড়খাল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে অব্যাহত ভাঙন মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বাড়িয়েছে। চলতি বছর ইতোমধ্যে ২ শতাধিক বসতবাড়ি যমুনায় হারিয়ে গেছে। নদী গ্রাস করেছে কৃষকের ফসলি জমি। অনেক স্থানে ভেসে গেছে স্বজনদের শেষ স্মৃতিচিহ্ন টুকুও (কবর)। স্থানীয়রা জানান, যমুনা দিনের বেলা যতটা না আগ্রাসী, তার চেয়ে বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠে রাতে। আতঙ্কে রাত কাটে নদীর পাড়ের মানুষের। ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ ফেললেও কাজে আসছে না। ফলে আরও বসতভিটা, রাস্তা, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আর ফসলি জমি নদীতে বিলীনের শঙ্কা রয়েছে। ভাঙনে নিঃস্ব অনেকের ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। কেউ কেউ ভয়ে বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিেেচ্ছন। একই উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরেরচর এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। অব্যাহত ভাঙনের মুখে বাধ্য হয়ে বসতবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামের একমাত্র রাস্তার শেষ অংশটুকু রক্ষা করতে বাঁশের বেড়া দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। নদীতীরের মানুষের দাবি-সাময়িকভাবে নয়, ভাঙন ঠেকাতে দরকার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান বলেন, চর ডাকাতিয়া, খোলাবাড়ি এলাকায় যমুনার ভাঙন রোধে ৫১৩ মিটারে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে। কাজ প্রায় শেষদিকে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে। পাথরেরচর লোকাই ঝোরার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে ভাঙন ঠেকাতে ২৪০ মিটারে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভাঙনে ছোট হচ্ছে দেওয়ানগঞ্জ
চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। গত সোমবার বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার দিন আগে ঝড়-বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এতে দুই উপজেলার কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এ ঘটনার পর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে ফসলের খেতে পানি দিতে পারছে না। মোবাইল ফোন চার্জ করা যাচ্ছে না। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসাবাণিজ্য। দৈনন্দিন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আবদুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এরপর থেকে প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।